ধর্মনগর প্রতিনিধি : ত্রিপুরায় নেশা সামগ্রী পাচারের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল বিক্রয় কর দপ্তর ও পুলিশ। অত্যাধুনিক পাচার কৌশল ব্যবহার করে বহিঃরাজ্য থেকে ত্রিপুরায় আনা হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ নেশার সিরাপ। তবে শেষ রক্ষা হলো না। ত্রিপুরায় প্রবেশের মুখেই প্রায় এক কোটি ছাব্বিশ লক্ষ টাকা মূল্যের নেশার সিরাপ জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার গভীর রাতে। অসম সীমান্ত পেরিয়ে ত্রিপুরা সীমান্তের চুরাইবাড়ি সেলটেক্স কমপ্লেক্স দিয়ে একটি মিনি লরি ত্রিপুরায় প্রবেশ করে। লরিটি বাইরে থেকে ওআরএস ও টিস্যু পেপার বোঝাই বলে দাবি করা হয়। চালক প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে বিক্রয় কর দপ্তরে গেলে চালান যাচাইয়ের সময় দপ্তরের কর্মীদের সন্দেহ হয়। ফলে গাড়িটিকে রাতভর আটক রাখা হয়।পরদিন সকালে WB-57M-8596 নম্বরের মিনি লরিটি তল্লাশি চালানো হলে পণ্যের আড়ালে বিপুল পরিমাণ নেশার সিরাপ ‘এসকাফ’উদ্ধার হয়। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি চুরাইবাড়ি থানাকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উত্তর জেলার পুলিশ সুপার অবিনাশ রাই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কমল দেববর্মা ও মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জয়ন্ত কর্মকারের নেতৃত্বে ফরেন্সিক টিম এসে সম্পূর্ণ গাড়ির মালপত্র নামিয়ে তল্লাশি চালায়।তল্লাশিতে মোট ৪৯৯টি কার্টুন উদ্ধার হয়। এর মধ্যে ২৫২ কার্টুন এসকাফ নেশার সিরাপ এবং ২৪৭ কার্টুন ওআরএস ছিল। উদ্ধার হওয়া এসকাফ সিরাপের বোতলের সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার ৬০০টি। উদ্ধারকৃত নেশার সিরাপের আনুমানিক কালোবাজারি মূল্য প্রায় এক কোটি ছাব্বিশ লক্ষ টাকা বলে জানান উত্তর জেলার পুলিশ সুপার অভিনাস রাই।উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অসম ও ত্রিপুরার চুরাইবাড়ি থানার পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে লরিটি সীমান্ত পার হলেও শেষ পর্যন্ত বিক্রয় কর দপ্তরের তৎপরতায় পাচারের ছক ভেস্তে যায়। এতে স্বাভাবিকভাবেই জেলা প্রশাসনের তৎপরতা ও সতর্কতা প্রশ্নাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।এই ঘটনায় লরির চালক পাঞ্জাব শেখ এবং সহচালক বাছিত শেখ-কে আটক করা হয়েছে। ধৃত দু’জনেরই বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় বলে জানা গেছে।পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। এই পাচারচক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে এবং নেশার সিরাপগুলো কোথায় পৌঁছানোর কথা ছিল, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।
