কুমারঘাট প্রতিনিধি, জনি ভট্টাচার্য ।। শনিবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল ত্রিপুরার ফটিকরায় থানাধীন সায়দারপাড় শিমুলতলা এলাকা। একদল দুষ্কৃতীর তাণ্ডবে আগুনে পুড়লো বাড়িঘর গাড়ি সহ দোকান। ঘটনাস্থলে মোতায়েন পুলিশ টিএসার, সিআরপিএফ ও আসাম রাইফেলস। এলাকা পরিদর্শনে ঊনকোটি জেলার জেলাশাসক ডঃ তমাল মজুমদার ও ভারপ্রাপ্ত জেলা পুলিশ সুপার অবিনাশ রাই সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা। এলাকায় জারি করা হয়েছে কার্ফিউ। ঘটনা প্রসঙ্গে ঊনকোটি জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার অভিনাস রাই জানান, কিছু লোক এসে এলাকার কিছু বাড়ি ঘরের বাইরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার পর তড়িঘড়ি নিরাপত্তা বাহিনী পাঠিয়ে ভিড়কে ছত্রভঙ্গ করে প্রশাসন। এলাকায় জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা টহল দেওয়া হবে এলাকায়। জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার ঘুরে দেখেছেন এলাকা। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত জেলা পুলিশ সুপার। তিনি জানিয়েছেন, এই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কয়েকটি ঘরের সামনে রাখা খড়ের মোড়লে দেয়া হয়েছে আগুন। দমকল বাহিনি ছুটে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর মামলা নিয়ে পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে জানান পুলিশকর্তা। মূলত কিসের থেকে এই ঘটনার সূত্রপাত তানিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদেরমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। ভারপ্রাপ্ত জেলা পুলিশ সুপার জানান, ভিড়কে ছত্রভঙ্গ করতে আইন অনুযায়ী যাযা করা প্রয়োজন তাই করেছে পুলিশ। ঘটনায় আগুনে পুড়েছে একটি কাঠের দোকান সহ বেশ কয়েকটি বাড়ির সামনে থাকা খড়ের মোড়ল ও ভাঙচুর হয়েছে কয়েকটি বাড়িঘরেও। বিক্ষিপ্ত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের তিনটি ইঞ্জিন। আক্রমণকারী এবং আক্রান্ত এই দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ ঠেকাতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল সংখ্যক পুলিশ, টিএসআর, সিআরপিএফ এবং আসাম রাইফেলস জাওয়ানদের। ঘটনার পরই গোটা এলাকা দখল নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। চলছে ড্রোন ক্যামেরায় নজরদারি। এদিকে ভিড়কে ছত্রভঙ্গ করতে মৃদু লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশকে। দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন কয়েকজন। ঘটনার পর শান্তি বজায় রাখতে তৎপর পুলিশ। মূলত কি নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাকে নিয়ে সাম্প্রদায়িক রং লাগিয়ে যারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা করছেন তাদের দিকেও নজর রেখেছে প্রশাসন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এলাকা। ঘটনাকে ঘিরে থমথমে পরিস্থিতি এলাকায়।
