আগরতলা প্রতিনিধি, গৌতম ঘোষ ।। রাজ্যের বর্তমান সরকার হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। লোকগীতি, পল্লিগীতি, বাউল সংগীত, যাত্রাপালা, নাটক, কীর্তন ইত্যাদি আমাদের আদি সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতি আমাদের স্বকীয় সংস্কৃতি। বর্তমান প্রজন্ম এই স্বকীয় সংস্কৃতিকে যত বেশি চর্চা করবে, আগলে রাখবে, ততই রাজ্য তথা দেশ উপকৃত হবে।ত্রিপুরা সরকারের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী রতনলাল নাথ মঙ্গলবার লম্বামুড়ার আলপনা গ্রামে ৩ দিনব্যাপী আলপনা ও পিঠেপুলি উৎসব ২০২৬-এর উদ্বোধন করে এই কথাগুলি বলেছিলেন। এই উৎসব ১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে আগরতলা পুরনিগম, পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদ, পূর্ত দপ্তর, গ্রামোন্নয়ন দপ্তর ও সংস্কার ভারতীর (ত্রিপুরা প্রান্ত) সহযোগিতায় এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।আলপনা ও পিঠেপুলি উৎসব হচ্ছে মাটির উৎসব, প্রকৃতির উৎসব। লংকামুড়া এবং আশপাশের গ্রামের মানুষ মাটির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তারা এই গ্রামকে আধুনিকতার সাথে ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। এই আলপনা গ্রাম আজ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশ বিদেশে এর বার্তা পৌঁছে গেছে। দূরদূরান্ত থেকে অনেক মানুষ এই আলপনা গ্রামকে দেখতে আসেন। বিগতদিনের তুলনায় এবারের আলপনা ও পিঠেপুলি উৎসবে রেকর্ড পরিমাণে লোকসমাগম হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল মানুষের উপস্থিতি।খবর নিয়ে জানা গেছে রাত ৮ টার আগেই সমস্ত পিঠেপুলি শেষ হয়ে গেছে।যারা স্টল নিয়ে বসেছিলেন তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে ধারনাই করতে পারেন নি এত লোক হবে। পিঠেপুলি বিক্রি করতে যা সরঞ্জাম নিয়ে এসেছিলেন সমস্তকিছু শেষ হয়ে গেছে। মানুষ চাইছিলেন কিন্তু তারা দিতে পারেন নি। সমস্ত স্টলের পিঠেপুলি এক টানেই যেন বিক্রি হয়ে গেছে।রাস্তার দুপাশে দেখা গেছে শতশত বাইক আর গাড়ি। এত পরিমাণে লোকসমাগম দেখে উদ্যোক্তারাও খুশি। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার ও প্রাক্তন বিধায়ক ডা. দিলীপ দাস। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সহ-অধিকর্তা অমৃত দেববর্মা। পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, আগরতলা পুরনিগমের মেয়র ইন কাউন্সিল জগদীশ দাস, কর্পোরেটর প্রদীপ চন্দ, কর্পোরেটর মিত্রা রাণী দাস মজুমদার, কর্পোরেটর মিঠুন দাস বৈষ্ণব, কর্পোরেটর সুপর্ণা দেবনাথ, কর্পোরেটর শিল্পী দেওয়ান, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপ-অধিকর্তা জয়দীপ দেববর্মা, বিশিষ্ট সমাজসেবী রাজীব সাহা প্রমুখ। ২০১৬ সাল থেকে এই গ্রামে আলপনা ও পিঠেপুলি উৎসব শুরু হয়েছিল। এরপর যতবার এই উৎসব হয়েছে ততবারই আকর্ষিত হয়েছে রাজ্যের সংস্কৃতি প্রেমী মানুষ।প্রত্যেকবারই মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্য অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে উদ্যোক্তারা। এবারও ছিল ব্যতক্রমি আয়োজন।সবমিলিয়ে উদ্যোক্তাদের প্রয়াস যে এবারও সফলতা পেয়েছে ব্যাপকহারে মানুষের উপস্থিতি তা প্রমাণ করে দিয়েছে।
