আগরতলা প্রতিনিধি ।। শুক্রবার আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে আগরতলা পুর নিগমের উদ্যোগে স্বদেশী মেলা ২০২৬ এর উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা। উদ্বোধকের ভাষণে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ভোকাল ফর লোকাল’ এবং আত্মনির্ভর ভারতের আহ্বানকে বাস্তব রূপ দিতে রাজ্য সরকার নিরন্তর কাজ করে চলছে। আত্মনির্ভর ভারত কেবল একটি বাক্য নয়, এটি একটি জন আন্দোলন-যেখানে প্রতিটি নাগরিক দেশীয় পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অংশীদার হতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বনেছেন ভারত আজ অনেক কিছুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। যেসব জিনিস আমাদের দেশে রয়েছে এবং আমরা নিজেরা তৈরি করতে পারছি সেইসব জিনিস ব্যবহার করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এর মাধ্যমেই দেশ ২০৪৭-এর বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে। এই ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী নিজস্ব পণ্য ব্যবহার এবং তৈরির উপর আরও গুরুত্ব আরোপ করেন এবং প্রচার প্রসবে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি আরও বলে, ‘ভোকাল ফর লোকাল’ এর মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে নিজস্ব পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করা, নিজস্ব পণ্য ব্যবহারে আকৃষ্ট করা এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া। এতেই অনোর প্রতি নির্ভরতা হ্রাস পাবে এবং স্বনির্ভরতার পথ খুঁজে পাওয়া যায়। রাজ্যের বর্তমান সরকারও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে স্বদেশী মানসিকতা নিয়ে চলার।তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বদেশী পণ্য ব্যবহারের আহ্বান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ। আত্মনির্ভর ভারত কোনও একক কর্মসূচি নয়, এটি ১৪০ কোটি ভারতবাসীর সম্মিলিত সংকল্প। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ত্রিপুরাকে আত্মনির্ভর রাজ্য হিসেবে গড়ে তুলতে রাজা সরকার স্থানীয় উৎপাদিত পণ্যকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিচ্ছে। গুণগতমান বৃদ্ধি, উদ্ভাবন, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যাতে আমাদের পণা দেশ ও বিদেশের বাজারে সমাদৃত হয়। তিনি বলেন, ত্রিপুরা আজ অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে। আইন শৃঙ্খলা, শিক্ষা পর্যটন, অর্থনৈতিক, যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজ্যের অগ্রগতি মানুষ উপলব্ধি করতে পারছেন। দেশব্যাপী প্রশংসিতও হচ্ছে। বাইরের বিনিয়োগকারীরাও ত্রিপুরাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তিনি বলেন, স্বদেশী মেলা রাজ্যের ঐতিহ্য এবং স্বনির্ভরতাকে তুলে ধরার এক অভিন্ন মঞ্চ। এর মাধ্যমে স্থানীয় পণ্যের প্রতি মানুষের আস্থা ও আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশা ব্যক্ত করেন।
