ধর্মনগর প্রতিনিধি, মিলন নাগ : ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছিল উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগরে। গত ২১ মার্চ পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘটিত নৃশংস হামলায় প্রাণ হারান খালেদ আহমেদ। ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্তরা এখনও গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ধর্মনগরের মঙ্গলকালি বড় মসজিদ সংলগ্ন এলাকা। এদিন সকাল থেকেই শতাধিক মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে সামিল হন। গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করা হয়। ফলে এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের একটাই দাবি—খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।উল্লেখ্য, গত ২১ মার্চ ঈদের দিন অতর্কিত হামলায় গুরুতর জখম হন দুই ভাই খালেদ ও জুনায়েদ। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় খালেদের। আহত জুনায়েদ এখনও মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। এই ঘটনায় মইনুদ্দিন, সাবুদ্দিন, হায়দর আলী ও যুবেল আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক বলে অভিযোগ।স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু পাঁচ দিন কেটে গেলেও আসামিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। এতে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে।বিক্ষোভ চলাকালীন উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের তিনটি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। পরে আরও একটি দমকল ইঞ্জিন এসে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে তিনটি বাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় বিপুল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছান এসডিপিও জয়ন্ত কর্মকার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তাঁরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতারের আশ্বাস দেন।এদিকে, এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি—চেনা মুখ হওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্তদের গ্রেফতার না হওয়া রহস্যজনক। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারে এবং খালেদ হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারে।
