সোনামুড়া প্রতিনিধি ।। গভীর রাতে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাণ্ডব চালাল ডাকাতের দল। ঘটনাটি ঘটেছে বাঁশপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নং ওয়ার্ডের মরণআলী এলাকার মনির হোসেন পিতা শাহাজাহান মিয়ার বাড়িতে। বাড়ির মালিককে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে নগদ টাকা ও আনুমানিক ৫ ভরি সোনার গয়না লুঠ করে চম্পট দিয়েছে ডাকাত দল। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত গভীর রাতে মরণআলী এলাকার বাসিন্দা শাহাজাহান মিয়ার বাড়িতে পাঁচ-ছয় জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল হানা দেয়। দরজা ভেঙে দুষ্কৃতীরা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। পরিবারের সদস্যরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে তাঁদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর গৃহকর্তাকে একটি ঘরে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে আলমারির চাবি ছিনিয়ে নেয় ডাকাতরা।ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আলমারিতে থাকা কয়েক লক্ষ টাকার স্বর্ণালংকার এবং কয়েক হাজার নগদ টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। যাওয়ার সময় মোবাইল ফোনগুলিও নিয়ে যায় তারা যাতে পুলিশ বা প্রতিবেশীদের খবর না দেওয়া যায়। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে চলে এই তাণ্ডব।এই ঘটনার পর থেকেই বাঁশপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এলাকায় পুলিশি টহলদারি ঠিকমতো না হওয়ার কারণেই দুষ্কৃতীরা এমন সাহস দেখাচ্ছে। মরণআলীর মতো জনবহুল এলাকায় কীভাবে অস্ত্র হাতে ডাকাতরা ঢুকে পড়ল এবং নির্বিঘ্নে ডাকাতি করে বেরিয়ে গেল, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রশ্ন— “সাধারণ মানুষ কি তবে নিজের বাড়িতেও নিরাপদ নয়?তবে যাত্রাপুর থানার ওসির বক্তব্য হচ্ছে, রাতেই তিনটার দিকে খবর পেয়ে এসআই রতন দেবনাথ অন্যান্য পুলিশ ও টি এস আর জোয়ানদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির মালিকের কাছ থেকে সমস্ত ঘটনা জেনে আসে প্রায় এক ঘন্টা তাদের সাথে কথা বলে। রবিবার সকাল নটার দিকে যাত্রাপুর থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে। ওসি জানিয়েছেন এই ডাকাতির ঘটনার সাথে যুক্ত কারা কারা থাকতে পারে তা নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, প্রকৃত আসামি কবে নাগাদ পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
