কৈলাসহর,অয়ন মজুমদার : ঊনকোটি জেলার কৈলাসহরে তিনদিন ধরে লাগাতার বৃষ্টি পড়ছে। প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে শহর এলাকার ড্রেন সহ লক্ষীছড়া এবং গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন নালা নর্দমায় বৃষ্টির জল রয়েছে। একইসাথে কৈলাসহরের মনু নদীর জলও বেড়েছে। অন্যদিকে, কৈলাসহরের লাটিয়াপুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে ভারত বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার ভিতরে জিরো পয়েন্টে মনু নদীর বাঁধ বিপদজনক হয়ে যায়। অল্প বৃষ্টি হলেই লাটিয়াপুড়া গ্রামের ভারত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তের জিরো পয়েন্ট এলাকায় জল জমে যায়। সেই জল নিষ্কাশনের জন্য বিগত দুই দিন পূর্বে বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পক্ষ থেকে জিরো পয়েন্টের কাছে যে বাঁধটি রয়েছে সেই বাঁধ কেটে বড় লোহার পাইপ বসানোর কাজ শুরু হয়েছিলো। মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ করে মনু নদীর জল বেড়ে গিয়ে বাঁধের কাটা অংশ দিয়ে জল প্রবেশ করতে শুরু হওয়ায় গোটা লাটিয়াপুড়া গ্রামে চিৎকার চেচামেচি শুরু হয়ে যায়। এই খবর সামাজিক মাধ্যমে চাউর হতেই গোটা কৈলাসহর মহকুমায় তীব্র আতংক বিরাজ করতে থাকে। এখবর শোনা মাত্রই মঙ্গলবার দুপুরে ঊনকোটি জেলার জেলাশাসক ডক্টর তমাল মজুমদারের নির্দেশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি করে মাটির বস্তা এবং বোল্ডার ফেলা শুরু হয়। বিকেল পাঁচটা নাগাদ ঊনকোটি জেলার জেলাশাসক ডক্টর তমাল মজুমদার, কৈলাসহর মহকুমার মহকুমাশাসক বিপুল দাস, বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার রনজয় দেববর্মা সহ আরও অন্যান্য আধিকারিক ঘটনাস্থলে যান এবং শ্রমিকদের কাজ খতিয়ে দেখেন। কাজ পরিদর্শনকালে বিএসএফের আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। এব্যাপারে জেলাশাসক জানান, আতংকের কিংবা ভয়ের কিছু নেই। কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। হঠাৎ করে নদীর জল বেড়ে যাওয়াতেই এই বিপত্তির সৃষ্টি হয়েছিলো। মনু নদীর জল বাড়তে থাকলেও এখনও বিপদসীমার দেড় মিটারের নীচেই রয়েছে বলেও জানান। তাছাড়া কাঞ্চনপুর, লংতরাই ভ্যালী সহ উঁচু পাহাড় এলাকায় বৃষ্টিপাত আর না হলে মনু নদীর জল আর বাড়বে না বলেও জানান। এছাড়া বিগত তিনদিন ধরে লাগাতার ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে গোটা ঊনকোটি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে প্রচুর বড় বড় গাছ, বিদ্যুৎের খুঁটি সহ কিছু বাড়িঘর ভাঙ্গলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এবং কিছু কিছু এলাকায় কয়েকটি বাড়ি ঘরে জল ঢুকলেও কেউ বাড়িঘর ছেড়ে অন্য কোথাও যায় নি। কিংবা শেল্টার হাউসে কেউ আসেনি বলেও জানান। প্রশাসন সজাগ রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান জেলাশাসক ডক্টর তমাল মজুমদার।
