ধর্মনগর, মিলন নাগ : ধর্মনগর জেলা হাসপাতাল থেকে এমন কিছু দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি হয়েছে যার পরিপ্রেক্ষিতে জনমনে এখন নানা প্রশ্ন উঁকি মারছে। মানুষ যেখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুস্থতার আশায় ছুটে আসে, সেই হাসপাতালই যদি অসামাজিক কাজকর্মের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের ভরসা কোথায় দাঁড়াবে? উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর জেলা হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারকে ঘিরে এবার ঠিক এমনই এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে, যা রীতিমতো উদ্বেগ ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়ে ট্রমা সেন্টারের বাথরুমের ভিতরের এক লজ্জাজনক ও অস্বস্তিকর দৃশ্য। বাথরুমের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় মদের খালি বোতল,আপত্তিকর সামগ্রী, সিরিঞ্জসহ ড্রাগস গ্রহণের নানা সরঞ্জাম। হাসপাতালের মতো একটি সংবেদনশীল ও সুরক্ষিত জায়গায় এই ধরনের সামগ্রী উদ্ধার হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে।ঘটনাটি সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর পরিজন ও সাধারণ মানুষ। তাঁদের বক্তব্য, যেখানে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসে, সেখানে যদি রাতের অন্ধকারে নেশা ও অসামাজিক কার্যকলাপ চলে, তাহলে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং ভয়ের বিষয়। অনেকে অভিযোগ করেন, রাতের বেলায় ট্রমা সেন্টারের আশেপাশে সন্দেহজনক লোকজনের যাতায়াত বহুদিন ধরেই লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। কিন্তু প্রশাসনের তরফে কোনও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই অপরাধীদের দাপট বেড়েছে।এদিকে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগের তির সরাসরি ট্রমা সেন্টারের সিকিউরিটি ইনচার্জ অর্ধেন্দু সূত্রধরের দিকে। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট বাথরুমের চাবি তাঁর কাছেই থাকে এবং রাত নামলেই সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপ শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই কার্যকলাপ চললেও বিষয়টি নিয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি।হাসপাতালের সাফাই কর্মীদের একাংশের দাবি, সকালে পরিষ্কার করতে গিয়ে তাঁরা প্রায়ই আপত্তিকর সামগ্রী দেখতে পান। তবে চাকরি হারানোর ভয় এবং আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে পারেননি। এবার সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় পুরো বিষয়টি ধরা পড়ায় ঘটনাটি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে ধর্মনগর জুড়ে।স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় তৈরি হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টার কোনওভাবেই নেশাখোর বা অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়া হতে পারে না। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন তাঁরা। একইসঙ্গে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনারও দাবি উঠেছে।ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এত বড় একটি ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চললেও প্রশাসনের নজরে এল না কীভাবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। যদিও এই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর সময় থাকতে উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে আগামি দিনে হাসপাতালের মধ্যেই বড় ধরনের অঘটন ঘটে যাবে বলে আশংকা করছেন ধর্ম নগরের মানুষ।
