খোয়াই, প্রীতম তাঁতি : পুলিশের ওপর আস্থা হারিয়ে অবশেষে চুরির ঘটনার রহস্যভেদ করলেন খোয়াইয়ের সচেতন নাগরিকরা। চুরি যাওয়া মালামালসহ মূল অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
ধৃত যুবকের নাম জয়দেব নম দাস(২৮)। সে খোয়াই সুভাষপার্ক ফাঁড়ি সংলগ্ন কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ই জুন খোয়াই সুভাষপার্ক পুলিশ ফাঁড়ির ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে পরপর দুটি মুদি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে।
চোরের দল দোকান দুটি থেকে প্রায় ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকার সিগারেট নিয়ে চম্পট দেয়। এই চুরির ঘটনায় পুলিশের কাছে নির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু ঘটনার তদন্তে নেমেও খোয়াই থানার পুলিশ মালামাল উদ্ধার বা চোর ধরতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তার মাঝেই ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই নতুন মোড় আসে।
গত ৯জুন বুধবার অভিযুক্ত জয়দেব নম দাস চুরি যাওয়া বিপুল পরিমাণ সিগারেট বিক্রির উদ্দেশ্যে খোয়াই থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে গৌরনগর বাজারে নিয়ে যায়। মালামালের পরিমাণ অস্বাভাবিক রকমের বেশি হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মনে সন্দেহ জাগে।
গৌরনগর বাজারের সচেতন নাগরিকরা তাকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে তার কথাবার্তায় চরম অসংলগ্নতা ধরা পড়ে।এরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা খোয়াই সুভাষপার্ক ফাঁড়ির পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে অভিযুক্ত জয়দেব নম দাসকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশি জেরার মুখে ধৃত যুবক নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।সুভাষপার্ক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রঞ্জিত সরকার জানিয়েছেন, ধৃত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার তাকে খোয়াই জেলা ও দায়রা আদালতে সোপর্দ করা হবে। তবে খোদ পুলিশ ফাঁড়ির নাকের ডগায় চুরি এবং পরবর্তীতে পুলিশের ব্যর্থতায় সাধারণ নাগরিকদের চোর ধরার এই ঘটনায় এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
