খোয়াই, প্রীতম তাঁতি : ২০২১ সালের একটি রাজনৈতিক সংঘাত ও থানা ঘেরাও মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার সমন জারি করেছে ত্রিপুরার খোয়াই জেলা ও দায়রা আদালত।
আগামী ২২শে জুন তাঁকে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা গেছে বিগত ২০২১ সালে ত্রিপুরায় রাজনৈতিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল যুবনেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য সহ একাধিক কর্মী-সমর্থককে গ্রেফতার করে খোয়াই থানার পুলিশ।
এই গ্রেফতারির খবর পেয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ত্রিপুরায় ছুটে আসেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, কুনাল ঘোষ, দোলা সেন সহ ১৪ জন শীর্ষ নেতৃত্ব। অভিযোগ ওঠে, খোয়াই থানায় প্রবেশ করে তাঁরা উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সাথে অসভ্য আচরণ করেন এবং থানার সরকারি সামগ্রী ভাঙচুরের চেষ্টা চালান।
থানার কাজে বাধা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে খোয়াই জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়। খোয়াই জেলা ও দায়রা আদালতের মাননীয় বিচারপতি ধর্মেন্দ্র দাস পুলিশের পেশ করা এই মামলাটি গ্রহণ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।
প্রাথমিক সমন জারির পর পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এই মামলাটিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আগরতলা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। উচ্চ আদালত সমস্ত দিক বিবেচনা করে ব্রাত্য বসুকে এই মামলা থেকে খালাস বা অব্যাহতি প্রদান করে। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, কুনাল ঘোষ সহ বাকি ১৩ জন নেতৃত্ব আদালতের সমনের বিরুদ্ধে কোনো আইনি প্রতিক্রিয়া বা পদক্ষেপ না করায় আইনি প্রক্রিয়া জারি থাকে।
ফলস্বরূপ, গত ২৭শে এপ্রিল খোয়াই আদালতের পক্ষ থেকে পুনরায় তাঁদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়।সম্প্রতি পুনরায় জারি করা সেই আইনি সমনটি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে এসে পৌঁছেছে। সমনের স্পষ্ট নির্দেশানুযায়ী, আগামী ২২শে জুন খোয়াই জেলা ও দায়রা আদালতে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতাকে। এই সমনকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরার রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।
