কৈলাসহর প্রতিনিধি : ত্রিপুরার সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তকে বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে সম্পূর্ণ ‘অবাস্তব’ বলে আখ্যা দিলেন কংগ্রেস পরিষদীয় দলের নেতা তথা অখিল ভারতীয় পঞ্চায়েত পরিষদের ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সভাপতি বিধায়ক বিরজিত সিনহা।
রাজ্য মন্ত্রিসভা জুন মাসে Agartala Government Medical College এবং Govind Ballabh Pant Hospital-এর শিক্ষক ও মেডিক্যাল অফিসারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের যে সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে, তার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
এই সিদ্ধান্তের পক্ষে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা এবং স্বাস্থ্যসচিব কিরণ গিত্তের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের পূর্ণ সময় নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসা পরিষেবার মান বাড়িয়ে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস বা এইমসের আদলে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার যুক্তি দিলেও বাস্তবে এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা।
চিকিৎসকদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে মূল বেতনের ওপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ নন-প্র্যাকটিসিং অ্যালাউন্স দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের থাকলেও এজিএমসি ও জিবি হাসপাতালের সুপার-স্পেশালিস্ট চিকিৎসকদের ফোরাম ইতিমধ্যেই পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়া নেওয়া এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার কৈলাসহর জেলা কংগ্রেস ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিধায়ক বিরজিত সিনহা স্পষ্ট জানান যে, অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসের আদলে চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা সরকার ভাবলেও বাস্তবে সেই ধরনের পরিবেশ, পরিস্থিতি কিংবা উপযুক্ত পরিকাঠামো ত্রিপুরার সরকারি হাসপাতালগুলোতে নেই।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আগরতলা শহরে প্রায় ২০টি নার্সিংহোম রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন ভোরে অন্তত ২০ জন মহিলার সিজারিয়ান হয়। সরকারি এই সিদ্ধান্তের পর চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নার্সিংহোমগুলোতে এই পরিষেবা প্রায় বন্ধের মুখে।
অন্যদিকে, জিবি হাসপাতালে একসাথে এত পরিমান গর্ভবতী মহিলাদের সিজার করার মতো পর্যাপ্ত সুব্যবস্থা ও লোকবল নেই, যার ফলে সেখানে অসহায় মহিলাদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। হাসপাতালের বর্তমান বেহাল পরিকাঠামোর কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, এখন জিবি হাসপাতালে শত শত মানুষের ভিড় হচ্ছে অথচ সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব স্পষ্ট।
আউটডোরের শুধুমাত্র একটি টিকিট সংগ্রহ করতেই রোগীদের প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে এবং এরপর চিকিৎসকের দেখা পেতে আরও দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। জনবল সংকট, পদোন্নতি, পরিকাঠামো ও আইসিইউ বা ওটি-র সমস্যার সমাধান না করে শুধুমাত্র প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করে দিলে রোগীদের দুর্ভোগ ও বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করবে।
এই পরিস্থিতিতে সরকারি এই হঠকারী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। সরকারি এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে অল ইন্ডিয়া পঞ্চায়েত পরিষদের ব্যানারে আগামী ৫ জুলাই সকাল ১০:০০টা থেকে বিকেল ৪:৩০টা পর্যন্ত আগরতলার সার্কিট হাউসের কাছে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে এক শান্তিপূর্ণ ধরণা ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
প্রশাসনের কাছ থেকে এই ধরণার প্রয়োজনীয় অনুমতিও নেওয়া হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। বিরজিত সিনহা রাজ্যের সমস্ত স্তরের মানুষকে এবং তাঁর দলের বিধায়কদের এই ধরণা মঞ্চে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে চিকিৎসক সংগঠনগুলোর যে বৈঠক চলছে, সেখান থেকে যদি কোনো ইতিবাচক সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসে তবে তা সবার জন্যই মঙ্গলজনক হবে, অন্যথায় তাঁরা এই আন্দোলনের পথেই অবিচল থাকবেন।
সংবাদিক সম্মেলনে বিরজিত সিনহা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অল ইন্ডিয়া পঞ্চায়েত পরিষদের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক রনু মিঞা এবং জেলা কংগ্রেস সভাপতি মহম্মদ বদরুজ্জামান।
