কৈলাসহর প্রতিনিধি : ঊনকোটি জেলার কৈলাসহরের আর.জি.এম মহকুমা হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। ১১ মাসের এক জ্বরাক্রান্ত শিশুর পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক শরীরের তাপমাত্রা মাপার আগেই ওষুধ লিখে দেন এবং জানান, হাসপাতালে থার্মোমিটার নেই।
এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদেরই বাইরে থেকে থার্মোমিটার কিনে আনতে হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, বুধবার রাত প্রায় সাড়ে ১১টা নাগাদ চন্ডিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দীপক শুক্ল বৈদ্য তাঁর ১১ মাসের জ্বরাক্রান্ত সন্তানকে নিয়ে আর জি এম মহকুমা হাসপাতালে যান।
জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক অনুভব দাস শিশুটির শরীরের তাপমাত্রা না মেপেই প্রেসক্রিপশন লিখে দেন। শিশুর বাবা ও দিদা চিকিৎসকের কাছে প্রথমে জ্বর পরীক্ষা করার অনুরোধ জানালে, চিকিৎসক নাকি তাঁদের জানান যে হাসপাতালে থার্মোমিটার নেই এবং তা কেনার জন্য বর্তমানে প্রয়োজনীয় অর্থও বরাদ্দ নেই।
পরিবারের দাবি, চিকিৎসক তাঁদের বাইরে থেকে থার্মোমিটার কিনে আনতে বলেন।পরিবারের অভিযোগ, শরীরের তাপমাত্রা না মেপেই প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর্মীরা ইনজেকশন, স্যালাইন ও অন্যান্য চিকিৎসা প্রদান প্রকৃয়া শুরু করেন। পরে শিশুর চিকিৎসার স্বার্থে পরিবারের সদস্যরাই একটি বেসরকারি দোকান থেকে থার্মোমিটার কিনে এনে হাসপাতালে দেন।
শিশুর দিদা বলেন, “আমরা গরিব মানুষ বলেই সরকারি হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু এখানে সামান্য একটি থার্মোমিটারও পাওয়া গেল না। প্রয়োজনীয় সকল ওষুধও বাইরে থেকে কিনতে হয়। সরকারি হাসপাতালে যদি এই পরিস্থিতি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের ভরসা কোথায়?”
পরিবারের আরও অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত কোনও শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ওয়ার্ডে রাউন্ডে আসেননি। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ঊনকোটি জেলা হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত আইনজীবীর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে জেলা আইনজীবী মহল তদন্তের দাবি জানিয়েছিল। পরে রাজ্য সরকারের মন্ত্রী সুধাংশু দাস জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন করে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং কিছু ঘাটতির বিষয় স্বীকার করেছিলেন।
এদিকে, কৈলাসহর আর জি এম মহকুমা হাসপাতালকে ঘিরে নতুন এই অভিযোগের জেরে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার মান ও পরিকাঠামো নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে।
