চুরাইবাড়ি প্রতিনিধি ।। ত্রিপুরার উত্তর জেলার ধর্মনগর মহকুমার অন্তর্গত কদমতলার উত্তর ফুলবাড়ীতে অবস্থিত মামান ইন্ডাস্ট্রির আগর কারখানা পরিদর্শনে আসেন উত্তর-পূর্ব উন্নয়ন মন্ত্রক (MDoNER)-এর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। তাঁর এই সফরকে ঘিরে আগর শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।পরিদর্শনকালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আগর বিক্রেতা ও শিল্পের সঙ্গে যুক্ত উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। আগর উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, বিপণন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন। আগর শিল্পের সার্বিক উন্নয়নে কীভাবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে কাজ করতে পারে, সে বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন।এরপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বড়গোলে আগর মার্কেটের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত কমন আগর প্রসেসিং ইউনিটের শিলান্যাস করেন। এই শিলান্যাস অনুষ্ঠানকে ঘিরে এলাকাজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় মানুষ আশা প্রকাশ করেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আগর শিল্পে এক নতুন যুগের সূচনা হবে।অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী টিংকু রায়, মন্ত্রী শান্তনা চাকমা, বনদপ্তরের মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা, উত্তর জেলার জেলা শাসক চাঁদনী চন্দন, উত্তর জেলা পুলিশ সুপার অভিনাশ রাই, বনদপ্তরের আধিকারিক সহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।শিলান্যাস অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, আগর শিল্পকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরা সরকার যে স্বপ্ন দেখছে, সেই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে কাজ করছে। আগর শিল্পের মাধ্যমে ত্রিপুরাকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরাই কেন্দ্র সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।তিনি আরও বলেন, আগর শিল্পের বিকাশ হলে স্থানীয় যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, পাশাপাশি রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই ছোট্ট পার্বত্য রাজ্যের সম্ভাবনাকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতেই তাঁর এই ত্রিপুরা সফর বলে জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।সব মিলিয়ে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ত্রিপুরার আগর শিল্প যে নতুন দিশা পেতে চলেছে, সে বিষয়ে আশাবাদী প্রশাসন থেকে শুরু করে শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সকলেই।
