ধর্মনগর,মিলন নাগ : শিলচর-আগরতলা ও আগরতলা-শিলচর ডেইলি প্যাসেঞ্জার ট্রেনের পানিসাগর রেলস্টেশনে পুনরায় স্টপেজ চালুর দাবিতে বৃহস্পতিবার ব্যাপক বিক্ষোভ ও রেল অবরোধে সামিল হন বৃহত্তর পানিসাগর এলাকার বাসিন্দারা। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে এই দুই ট্রেনের স্টপেজ বন্ধ থাকায় উত্তর ত্রিপুরার বহু মানুষ রেল পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করোনা মহামারীর সময় শিলচর-আগরতলা এবং আগরতলা-শিলচর ডেইলি প্যাসেঞ্জার ট্রেনের পানিসাগর রেলস্টেশনে স্টপেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ট্রেন দুটির স্টপেজ আর চালু করা হয়নি।
এ নিয়ে বহুবার লামডিং রেলওয়ে ডিভিশনের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়। এমনকি পূর্বেও রেল অবরোধ কর্মসূচি সংগঠিত করেছিলেন এলাকাবাসী। তখন রেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত স্টপেজ চালুর আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বেলা প্রায় ১২টা নাগাদ পানিসাগর রেলস্টেশনে রেললাইনে বসে অবরোধ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারীদের দাবি, লিখিতভাবে স্টপেজ চালুর ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এই আন্দোলনে অংশ নেন পানিসাগর ছাড়াও দামছড়া, খেদাছড়া, কাঞ্চনপুর, জাম্পুইহিল সহ উত্তর ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
আন্দোলনের জেরে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময়ের জন্য রেল চলাচল ব্যাহত হয় এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেন, ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় আগরতলা থেকে কলকাতাগামী বিমানের পরিষেবাও তাঁরা ধরতে পারেননি।
পরবর্তীতে বিকেল প্রায় ৫টা নাগাদ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পানিসাগর মহকুমা শাসক সুশান্ত দেববর্মা, রেলওয়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সন্তোষ সাহা সহ রেল ও প্রশাসনের আধিকারিকদের যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জানানো হয়, আগামী এক মাসের মধ্যে শিলচর-আগরতলা ও আগরতলা-শিলচর ডেইলি প্যাসেঞ্জার ট্রেনের পানিসাগর রেলস্টেশনে পুনরায় স্টপেজ চালু করা হবে।
এই আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী মাসের ২৩ তারিখের মধ্যে প্রতিশ্রুতি কার্যকর না হলে তারা পুনরায় বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হবেন।
