কাঁঠালিয়া,নারায়ণ বৈদ্য ।। গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সামাজিক ভাতা প্রকল্পের অর্থ না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সুবিধাভোগীরা। মঙ্গলবার সকালে কাঁঠালিয়া গ্রামীণ ব্যাংক খোলার কিছুক্ষণ পরেই ব্যাংকের সামনে ভাতা প্রত্যাশী বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের ভিড় ও হতাশার চিত্র দেখা যায়।
সুবিধাভোগীরাদের অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিনই ভাতার টাকা পাবে কি না তা জানতে ব্যাংকে আসতে হচ্ছে।কিন্তু প্রতিবারই খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।ফলে যাতায়াতের খরচ বাড়ার পাশাপাশি মানসিক কষ্টও বাড়ছে।
ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা শেফালী মজুমদার জানান,তিনি একমাত্র বিধবা ভাতার ওপর নির্ভরশীল। গত তিন মাস ধরে কোনো অর্থ পাননি।তিনি বলেন, প্রতিবার ব্যাংকে এসে জানতে পারছেন যে তাঁর অ্যাকাউন্টে এখনও টাকা জমা পড়েনি।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁকে সিডিপিও অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু ভবানীপুর থেকে কাঁঠালিয়া গ্রামীণ ব্যাংকে আসা-যাওয়ায় প্রতিবার ৬০ থেকে ৭০ টাকা খরচ হচ্ছে, যা তাঁর মতো অসহায় মানুষের জন্য বড় বোঝা।
একই সমস্যার কথা জানান নিদয়া এলাকার স্বামী-পরিত্যক্তা তুলসী রায়। কালিখলা এডিসি ভিলেজের পদ্মমোহন ত্রিপুরা বলেন, গত তিন মাসে শুধু ব্যাংকে আসা- যাওয়ার জন্যই ধার করে প্রায় ৫০০ টাকার বেশি খরচ করেছেন,তবুও ভাতার কোনো খবর নেই।দুর্লভ নারায়ণ এলাকার হাবা খাতুনও অভিযোগ করেন, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি বিধবা ভাতার টাকা পাচ্ছেন না।
ব্যাংকের ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে এখনও ভাতার অর্থ জমা পড়েনি।কেন অর্থ আসেনি, সে বিষয়ে ব্যাংকের কাছে কোনো তথ্য নেই।
এ বিষয়ে সিডিপিওর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন সকাল থেকে বহু বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ব্যাংকের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন।
কিন্তু ভাতার টাকা না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। পরদিন আবার একই আশায় ব্যাংকে আসেন তারা।দ্রুত বকেয়া ভাতার অর্থ প্রদান এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
