তেলিয়ামুড়া প্রতিনিধি ।। বিদ্যুৎ এখন আর বিলাসিতা নয়, আধুনিক জীবনের অন্যতম মৌলিক প্রয়োজন। আলো থেকে পানীয় জল, পড়াশোনা থেকে চিকিৎসা, ব্যবসা থেকে যোগাযোগ—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রই বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল।
সেই পরিস্থিতিতে দিনের পর দিন বিদ্যুৎ পরিষেবায় অনিশ্চয়তা এবং প্রিপেইড বিদ্যুতের রিচার্জ করতে গিয়ে বারবার ‘সার্ভার ডাউন’-এর অজুহাতে গ্রাহকদের খালি হাতে ফিরতে হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে তেলিয়ামুড়া মহকুমাজুড়ে।
এই পরিস্থিতিকে সামনে রেখে মঙ্গলবার শান্তিনগর এলাকায় কংগ্রেস ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে তেলিয়ামুড়া ব্লক কংগ্রেস। সেখানে বিদ্যুৎ পরিষেবার বেহাল অবস্থা, প্রিপেইড রিচার্জ ব্যবস্থার ঘনঘন প্রযুক্তিগত বিপর্যয় এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন দলের নেতৃত্ব।
বক্তারা বলেন, বিগত কয়েক দিন ধরে অসংখ্য গ্রাহক বিদ্যুৎ দপ্তরে গিয়েও সার্ভার বিভ্রাটের কারণে প্রিপেইড রিচার্জ করতে পারেননি। ফলে অনেক পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
প্রচণ্ড গরমের মধ্যে শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পানীয় জল সংগ্রহ, মোবাইল ফোন চার্জ, পড়ুয়াদের পড়াশোনা এবং ছোট ব্যবসা-বাণিজ্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কংগ্রেস নেতাদের অভিযোগ, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনে নামতে হয় এবং সমস্যার সমাধানের দাবিতে জাতীয় সড়ক অবরোধ পর্যন্ত করতে বাধ্য হন সাধারণ মানুষ।
তাঁদের মতে, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে এই সংকট এড়ানো সম্ভব ছিল।সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক অশোক কুমার বৈদ্য, ব্লক কংগ্রেস সভাপতি অতনু পাল, জেলা কংগ্রেসের সহ-সভাপতি বিশ্বজিৎ চন্দ, অসংগঠিত শ্রমিক সংগঠনের ব্লক চেয়ারম্যান মিন্টু দেব এবং জেলা কংগ্রেসের অন্যতম সদস্য রাজধন সরকার।
নেতৃত্বের দাবি, বিদ্যুৎ পরিষেবাকে নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবং প্রিপেইড রিচার্জ ব্যবস্থায় ঘনঘন সার্ভার বিভ্রাটের স্থায়ী সমাধানে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে সাধারণ মানুষকে এ ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে না হয়, তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলারও দাবি জানানো হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, নাগরিকদের মৌলিক পরিষেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বিদ্যুতের মতো অত্যাবশ্যক পরিষেবায় দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাধারণ মানুষের স্বার্থে দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানই এখন সময়ের দাবি।
