কুমারঘাট প্রতিনিধি, জনি ভট্টাচার্য।। ত্রিপুরার ফটিকরায়ের সায়দারপাড়ে সংগঠিত সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে পারস্পরিক আক্রমণে কংগ্রেস বিধায়ক বিরজিত সিনহা ও বিজেপি বিধায়ক তথা ত্রিপুরার মন্ত্রী সুধাংশু দাস। দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে কংগ্রেস বিধায়ক দায় ঠেলেদিলেন মন্ত্রী সুধাংশু দাসের দিকে। অন্যদিকে বিধায়ক বিরজিত সিনহা তথা কংগ্রেস দল একটি নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর সমর্থন যোগাচ্ছেন বলে পাল্টা অভিযোগ করলেন মন্ত্রী সুধাংশু দাস। সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রধান বিরোধী দল সিপিএম ও ঘটনার দোষ চাপালো শাসক দল বিজেপি এবং মন্ত্রী সুধাংশু দাসের উপর। এদিকে আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে প্রশাসনিক বাঁধার মুখে ফিরে এলেন বিধায়ক বিরজিত সিনহা।ফটিকরায়ের ঘটনা নিয়ে শাসকদল বিজেপি এবং মন্ত্রি সুধাংশু দাসকে অভিযোগের কাঠগড়ায় তুললেন বিরোধী সিপিআইএম এবং কংগ্রেস দল। দুপক্ষের লড়াইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কিছু সাধারণ পরিবার। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি উভয় পক্ষের কয়েকজন। ফটিকরায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্বদেশ দাস নামে এলাকার এক ব্যক্তি বলেন, একটি কাঠের গাড়ির সঙ্গে বাইকের সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডা থেকেই মারধোরের ঘটনার সূত্রপাত। লড়াই থামাতে গিয়ে জনৈক মুসব্বির আলী নামে এক ব্যক্তির হাতে তাকে আক্রান্ত হতে হয়েছে বলে জানালেন স্বদেশ দাস।এদিকে এই ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিলেন মুসব্বির আলীর পক্ষে থাকা শিমুলতলা এলাকার বাসিন্দা বাসিদ আলী। তিনি বলেন, হঠাৎ করে দুষ্কৃতীরা এসে বিভিন্ন জায়গায় আগুন লাগিয়ে দেয়। ভাঙচুর করা হয় মসজিদে। ভৈরব থলিতে একটি কাঠের গাড়ি আটকানোকে কেন্দ্র করে অগ্নিসংযোগ, মারধোর এবং ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা বলে জানালেন বাসিদ আলী নিজেও।এই ঘটনার পর ঘটনাস্থলে বিশাল নিরাপত্তা বাহিনী ছুটে গিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনে পরিস্থিতি। জারি করাহয় ১৬৩ ধারা। বন্ধ করে দেয়া হয় ইন্টারনেট পরিষেবা। রবিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যেতে চেয়েছিলেন কংগ্রেস বিধায়ক বিরজিত সিনহা, কংগ্রেস নেতা বদরুজ্জামান সহ কয়েকজন কংগ্রেস নেতা। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা জনিত কারণ দেখিয়ে ঘটনাস্থলের অনেক আগেই তাদের আটকে দেয় প্রশাসন। এনিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে রাস্তায় বাকযুদ্ধ হয় কংগ্রেস বিধায়কের। ঘটনা প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সুধাংশু দাস ও শাসক দল বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুললেন কংগ্রেস বিধায়ক। তিনি বলেন, চেবরী চৌমুনী এলাকায় তাদের আটকে দেয় পুলিশ প্রশাসন। তার অভিযোগ সুধাংশু দাস বরাবরই মিডিয়াতে নিজের বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়ান। সায়দারপাড়ের এই ঘটনা এরই বিস্ফোরণ বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বীরজিত সিনহা। এদিকে বিরজিত সিনহার এই বক্তব্যের পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন ফটিকরায়ের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সুধাংশু দাস। এই প্রেক্ষিতে তিনি সরাসরি কংগ্রেস দল এবং বীরজিত সিনহাদের একটি নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর সমর্থক বলে অভিযোগ করেন।সায়দারপাড়ছ ঘটে যাওয়া ঘটনার নিন্দা জানান মন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন এই ঘটনাকে কেন্দ্রকরে বিভিন্নভাবে রাজনীতি করার চেষ্টা হচ্ছে। এদিকে সাংবাদিক সম্মেলন করে শাসকদল বিজেপিকে তোপ দাগলেন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএম। কুমারঘাট মহকুমা অফিসে সাংবাদিক সম্মেলন করে দলের রাজ্য কমিটির সদস্য স্বপন কুমার বৈষ্ণব অভিযোগ করেন, সায়দারপাড়ের এই ঘটনা বিজেপি এবং আরএসএসের ঘৃণার রাজনীতির কারণে হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্রকরে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন কিছু সাধারন পরিবার। এনিয়ে শাসক বিরোধীদের মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক কাঁদা ছোড়াছুড়ি। ঘটনার পর এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনো থমথমে পরিস্থিতি গোটা এলাকায়। এদিকে শান্তি বজায় রাখতে তৎপর প্রশাসন।
